Language:
Facebook

Search

বই রিভিউ: অপেক্ষা - হুমায়ূন আহমেদ

  • Share this:
বই রিভিউ: অপেক্ষা - হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদের ‘অপেক্ষা’: এক অনিঃশেষ অপেক্ষার গল্প, একটি চক্রাকার জীবনের আখ্যান

আমরা প্রবাদ-প্রবচনে পড়ে থাকি, 'অপেক্ষা ফল সুমিষ্ট হয়'। কিন্তু বাস্তবে কি তাই হয়? অপেক্ষা কি সবসময় সুখ নিয়ে আসে, নাকি কখনো জীবনকেই করে তোলে অস্বাভাবিক? হুমায়ূন আহমেদের 'অপেক্ষা' উপন্যাসটি এই প্রশ্নগুলোই সামনে নিয়ে আসে।

অপেক্ষা: সুখকর নাকি অস্বাভাবিক?

এই উপন্যাসের মূল চরিত্র সুরাইয়া। তার জীবনের সবকিছু পাল্টে যায় যখন এক রাতে তার স্বামী হাসানুজ্জামান বাসায় ফেরেন না। রাত বারোটা থেকে শুরু হয় সুরাইয়ার এক অনন্ত অপেক্ষা, যা তার জীবনকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেয়। এই অপেক্ষার কারণে তার মেয়ে সুপ্রভা ও ছেলে ইমন মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়। কিন্তু সুরাইয়ার বিশ্বাস, একদিন তার স্বামী ফিরবেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস, ছেলে ইমনের বিয়ের দিন তার সব অপেক্ষার অবসান হবে।

গল্পের গভীরে: সুরাইয়ার অনন্ত অপেক্ষা (স্পয়লার সতর্কতা)

ইমনের বিয়ে হয়, এবং এর মাঝখানে ঘটে যায় অনেক ঘটনা। ইমনের বিয়ের রাতে কি সুরাইয়ার স্বামী ফিরবেন? তার সব অপেক্ষার অবসান হবে কি?

ইমনের বিয়ের রাতে কলিং বেল বেজে উঠল। সুরাইয়ার হাত-পা জমে গেল। মানুষটা কি এসেছে? নাকি তিনি ভুল শুনেছেন?

না, ভুল তো নয়। এই তো আবারো বেল বাজল। এই তো আবারো। কে এসেছে? কে?

 

পাঠ প্রতিক্রিয়া

 

স্বল্পকথায় বলতে গেলে, হুমায়ূন আহমেদের সব বই-ই আমার ভালো লাগে (শুধু "পোকা" বইটি বাদে), এবং "অপেক্ষা" এর ব্যতিক্রম নয়। বইটি আমার ভালো লেগেছে। ইমনের চাচার দেওয়া চিঠির সাথে ১০০ ডলারের দুটি নোট পড়ার সময়ে আমার চোখের কোণে পানি জমেছিল; আপনাদেরও জমতে পারে। এই বইটি যেন জীবনের এক অদ্ভুত চক্রকে তুলে ধরে।

রেটিং: ৪/৫

 

কিছু অবিস্মরণীয় উদ্ধৃতি

বই পড়ার সময় কিছু লাইন কোট করে রাখা আমার একটি অভ্যাস। "অপেক্ষা" বইয়েরও তেমন কিছু উদ্ধৃতি নিচে দেওয়া হলো। একটি বই থেকে এত উদ্ধৃতি এর আগে আমি কখনো দেইনি। ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু লাগতে পারে, কিন্তু কী আর করা! সবগুলো শেয়ার না করলে মনের ভেতর খচখচানি থেকে যাবে। এতগুলো প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় উদ্ধৃতি দেওয়ার জন্য ক্ষমা করবেন।

১. যেকোন ঘটনাই বড় করে দেখলে বড়, ছোট করে দেখলে ছোট। পুরো জিনিসটাই নির্ভর করছে কিভাবে দেখা হচ্ছে তার উপর। 
২. মিথ্যা কথা বললে দোষ হয়। লিখলে দোষ হয় না। ঔপন্যাসিকরা যে ক্রমাগত মিথ্যা কথা লিখেন তাদের তো দোষ হয় না। 
৩. খুব খারাপ সময়ের পরপরই খুব ভালো সময় আসে। এটা জগতের নিয়ম। 
৪. কোন কিছুই নিষিদ্ধ না। বাংলাদেশে সবই সিদ্ধ। কোনটা বেশি সিদ্ধ। কোনটা অল্প সিদ্ধ। 
৫. প্রকৃতি যাকে দেবার তাকে উজার করেই দেয়। যাকে দেবার না তাকে কিছুই দেয় না। এই জন্যেই একজন হয় রবীন্দ্রনাথ একজন হয় ঠেলাগাড়ির ড্রাইভার মোকাদ্দেছ। 
৬. ছেলে পাগলের চেয়ে মেয়ে পাগল ভয়ংকর। 
৭. শৈশবের কিছু কিছু ভয় মানুষের সঙ্গে থেকে যায়। মানুষের বয়স বাড়ে, শৈশবের অনেক কিছুই তাকে ছেড়ে যায়-- ভয়টা ছাড়ে না। 
৮. মানুষ স্নেহ ও ভালোবাসাকে চরিত্রের বিরাট দুর্বলতা মনে করেন। সেই দুর্বলতা প্রকাশ হয়ে পড়লেই তাঁদের লজ্জার সীমা থাকে না। 
৯. পেন্সিলে আঁকা ছবি পছন্দ না হলে রাবার দিয়ে ঘসে তুলে ফেলা যায়। অপছন্দের কথা মুছে ফেলার কোন ব্যবস্থা নেই। থাকলে খুব ভালো হতো। 
১০. হাসলে মেয়েদের যত সুন্দর লাগে হাসি চেপে রাখলে তারচে দশগুণ বেশি সুন্দর লাগে। 
১১. প্রচন্ড শারীরিক যন্ত্রণার সময় কোন প্রিয়জনকে ডাকতে ইচ্ছা করে। 
১২. কেউ কারো মত হতে পারে না। সবাই হয় তার নিজের মত। সব মানুষই আলাদা। 
১৩. জগতের বোকারা ভালো মানুষ ধরণের হয়। ১৪. যার কপালে যা লেখা থাকে তার তাই হয়। 
১৫. ফেরেশতার মত মানুষ কখনো ইন্টারেস্টিং হয় না। তারা সব সময় সত্যি কথা বলবে, সব সময় শুদ্ধ কাজ করবে। 
১৬. পাগলরা মানুষ খুব ভালো চেনে। ওদের সেন্স কুকুরের মত। গন্ধ শুকেই বলে দিতে পারে কার কাছে মহাবিপদের সম্ভাবনা। 
১৭. যেকোন শহরকে সবচেয়ে কুৎসিত দেখায় সন্ধ্যাবেলা। তখন প্রকৃতি তার আলো নিভিয়ে দেয়। মানুষ তার আলো জ্বালাতে শুরু করে। প্রকৃতির শেষ আলোর স্মৃতি মাথায় থেকে যায় বলেই মানুষের আলো অসহ্য বোধ হয়। 
১৮. পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় জিনিষগুলির জন্য কিন্তু টাকা লাগে না। বিনামূল্যে পাওয়া যায়। যেমন ধর জোছনা, বর্ষার দিনের বৃষ্টি, মানুষের ভালোবাসা......। 
১৯. একটা বয়সের পর মানুষ খানিকটা একা থাকতে চায়। 
২০. মুক্তির আনন্দে মানুষ অনেক উদ্ভট কান্ডকারখানা করে। 
২১. একটা বয়সের পর ছেলেরা বাবা-মা কারো কথাই শুনতে চায় না। শুধু স্ত্রীর কথা শোনে। 
২২. যেসব ছেলে খুব সুন্দর তারা আবার রূপবতী মেয়ে পছন্দ করে না। সুন্দরী মেয়েদের তারা নিজেদের রাইভ্যাল মনে করে।

 

বইয়ের পরিচিতি

বই: অপেক্ষা লেখক: হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশন: আফসার ব্রাদার্স ধরণ: সমকালীন উপন্যাস

আপনি যদি হুমায়ূন আহমেদের অন্য কোনো বই বা তার লেখার ধরণ নিয়ে আলোচনা করতে চান, তাহলে আমাকে জানাতে পারেন।

Ayon Rahman Holud

Ayon Rahman Holud