Language:
Facebook

Search

কেন বই পড়বেন, কোন বইগুলো পড়বেন এবং কীভাবে অভ্যাস গড়বেন?

  • Share this:
কেন বই পড়বেন, কোন বইগুলো পড়বেন এবং কীভাবে অভ্যাস গড়বেন?

কেন বই পড়বেন, কোন বইগুলো পড়বেন এবং কীভাবে অভ্যাস গড়বেন?

 

বই ছোট্ট একটি শব্দ, কিন্তু এর পরিধি মহাসাগরের চেয়েও বিশাল। বলা হয়ে থাকে, একটি ভালো বই একশটি ভালো বন্ধুর সমান।যান্ত্রিক এই যুগে আমরা সোশ্যাল মিডিয়া আর স্ক্রলিংয়ের ভিড়ে বই পড়ার অভ্যাস হারাতে বসেছি।কিন্তু মানুষের মানসিক বিকাশ ও জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

আজকের আমরা জানব বই আসলে কী, মানুষ কেন বই পড়ে, বাংলাদেশে বই পড়ার বর্তমান অবস্থা এবং কীভাবে আপনি বই পড়ার একটি সুন্দর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

১. বই কী? (What is a Book?)

সহজ কথায়, বই হলো লিখিত বা মুদ্রিত শব্দসমষ্টির একটি সংকলন, যা কাগজের বা ডিজিটাল (e-book) মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছায়। তবে আক্ষরিক অর্থের বাইরে বই হলো "জ্ঞানের ধারক ও বাহক"।এটি লেখকের চিন্তা, অভিজ্ঞতা, কল্পনা এবং গবেষণার ফসল যা পাঠকের কাছে নতুন এক পৃথিবীর দুয়ার খুলে দেয়। বই হলো সময়ের এক জাদুকরী মেশিন, যা আপনাকে মুহূর্তেই শত বছর আগের ইতিহাসে কিংবা ভবিষ্যতের কল্পরাজ্যে নিয়ে যেতে পারে।

২. মানুষ কেন বই পড়ে?

মানুষের বই পড়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করে:

১/ জ্ঞানার্জন ও দক্ষতা বৃদ্ধি: নতুন কিছু শেখা, ক্যারিয়ারের উন্নতি বা কোনো বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে তোলার জন্য মানুষ বই পড়ে।
২/ বিনোদন ও মানসিক প্রশান্তি: গল্পের বই, উপন্যাস বা ভ্রমণকাহিনী মানুষকে বিনোদন দেয়। এটি মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে ফুরফুরে রাখে।৩/ আত্মউন্নয়ন ও অনুপ্রেরণা: হতাশাময় জীবনে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে এবং নিজেকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে মানুষ মোটিভেশনাল বা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ে।

৩. কোন ক্যাটাগরির বই মানুষ বেশি পড়ে?

পাঠকের রুচিভেদে বইয়ের ধরণ আলাদা হয়। তবে বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশে বর্তমানে নিচের ক্যাটাগরিগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয়:

১/ ফিকশন বা উপন্যাস (Fiction): গল্প, উপন্যাস এবং রোমান্টিক বই সব বয়সের মানুষের প্রিয়। আমাদের দেশে  হুমায়ূন আহমেদের বই বা ক্লাসিক সাহিত্য এই তালিকার শীর্ষে।
২/ থ্রিলার ও রহস্য (Thriller & Mystery): বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে ডিটেকটিভ এবং সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার খুবই জনপ্রিয়।
৩/ আত্মউন্নয়ন ও মোটিভেশনাল (Self-help): ক্যারিয়ার, ব্যবসা, এবং ব্যক্তিগত জীবন গোছানোর জন্য এই ধরণের বইয়ের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
৪/ ধর্মীয় বই (Religious): মানসিক শান্তি এবং ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের জন্য প্রচুর মানুষ নিয়মিত ধর্মীয় বই পড়েন।
৫/  ইতিহাস ও জীবনী: সফল ব্যক্তিদের জীবনী এবং ইতিহাস জানতে আগ্রহী একটি বড় পাঠক গোষ্ঠী রয়েছে।

৪. বাংলাদেশে কত শতাংশ মানুষ বই পড়ে?

বাংলাদেশে বই পড়ার হার নিয়ে খুব সাম্প্রতিক সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন। তবে বিভিন্ন বেসরকারি জরিপ ও ‘বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র’-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের সাক্ষরতার হার ৭৫%-এর উপরে হলেও নিয়মিত সৃজনশীল বই পাঠকের সংখ্যা ৫% থেকে ১০%-এর মধ্যে ওঠানামা করে।

তবে আশার কথা হলো, প্রতি বছর ‘অমর একুশে বইমেলা’য় মানুষের ঢল এবং অনলাইনে বই কেনার প্রবণতা (ই-কমার্স সাইটগুলোর ডেটা অনুযায়ী) প্রমাণ করে যে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণরা এখন স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং নন-ফিকশন বইয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছে।

৫. বই পড়ার ৫টি জাদুকরী উপকারিতা:-

বই পড়া কেবল সময় কাটানো নয়, এর বৈজ্ঞানিক ও মানসিক উপকারিতা অনেক:

১/ মানসিক চাপ কমায়: গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৬ মিনিট বই পড়লে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস প্রায় ৬৮% কমে যায়।
২/ শব্দভাণ্ডার ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ায়: যারা বেশি পড়েন, তাদের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয় এবং তারা গুছিয়ে কথা বলতে পারেন।
৩/ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি: বই পড়া মস্তিষ্কের জন্য ব্যায়ামের মতো। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং আলঝেইমার্স প্রতিরোধে সাহায্য করে।৪/ মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়ায়: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমাদের ‘ফোকাস’ কমে গেছে। বই পড়া সেই ফোকাস বা মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনে।

৫/ সহমর্মিতা তৈরি করে: গল্পের বই পড়ার মাধ্যমে আমরা অন্যের অনুভূতি বুঝতে শিখি, যা আমাদের আরও মানবিক করে তোলে।

৬. কীভাবে বই পড়ার অভ্যাস করবেন? (টিপস)

বই পড়ার ইচ্ছা আছে কিন্তু সময় পাচ্ছেন না বা ধৈর্য থাকছে না? নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করুন:

১/ পছন্দের বই দিয়ে শুরু করুন: প্রথমেই কঠিন কোনো বই ধরবেন না। আপনার যদি গল্প ভালো লাগে, তবে ছোট গল্পের বই দিয়ে শুরু করুন।২/ প্রতিদিন ১০ মিনিটের নিয়ম: বিশাল টার্গেট না নিয়ে, প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট বা ৫ পৃষ্ঠা পড়ার লক্ষ্য ঠিক করুন। ঘুমানোর আগে এই সময়টা বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
৩/ বই সাথে রাখুন: ব্যাগে বা হাতের কাছে সবসময় একটি বই রাখুন। জ্যামে বসে বা অপেক্ষার সময়ে মোবাইল না টিপে বইয়ের কয়েক পাতা পড়ে নিন।৪/ স্ক্রিন টাইম কমান: প্রতিদিন ফেসবুক বা ইউটিউবে আমরা যে সময় নষ্ট করি, সেখান থেকে মাত্র ২০ মিনিট কমিয়ে বই পড়ার জন্য বরাদ্দ করুন।৫/ গুডরিডস (Goodreads) বা বুক ক্লাব: অনলাইনে বিভিন্ন বুক ক্লাবে যুক্ত হন। অন্যের রিভিউ দেখলে আপনারও পড়ার আগ্রহ জাগবে।

শেষ কথা, বই হলো এমন এক বন্ধু, যে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করে না। নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, "আজকের পাঠকই আগামীদিনের নেতা।" নিজেকে সমৃদ্ধ করতে এবং চিন্তার জগতকে প্রসারিত করতে আজই একটি বই হাতে তুলে নিন।

আপনার প্রিয় বই কোনটি? কমেন্টে আমাকে জানাতে পারেন!

 

Ayon Rahman Holud

Ayon Rahman Holud